আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পৃথিবীতে এমন দেশও আছে, যেখানে আপনাকে চুল কাটাতে হলেও সরকার নির্ধারিত স্টাইলেই কাটাতে হবে। শুধু তাই নয়, রাজধানীতে বসবাস করতে হলেও সরকারের অনুমতি লাগবে। আবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন? সেখানেও চেয়ার টেবিল কিনে দিতে হবে মা-বাবাকে।
শুনতে অবাক লাগলেও এমন সব আইন-কানুনই প্রচলিত কমিউনিস্ট রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ায়। কিম জং-উনের দেশ বলে কথা! ‘পাগলাটে’ নেতা হিসেবে আগেই গণমাধ্যমে ‘খ্যাতি’ কুড়িয়েছেন তিনি। আর দেশের আইন একটু পাগলাটে হবে না, তা কি হয়!
উত্তর কোরিয়ার এমন উদ্ভট নয়টি আইন:
১. দেখা যাবে মাত্র ৩টি টেলিভিশন চ্যানেল: আমাদের দেশে আমরা টেলিভিশন সেটটি খুললেই দেখতে পাই অসংখ্য চ্যানেল। রিমোট টিপে চলে যেতে পারি নিজের পছন্দের অনুষ্ঠানটিতে। কিন্তু কিমের দেশে এসব করা চলবে না। চ্যানেল দেখার সর্বোচ্চ সীমা তিন। এই তিনটির বাইরে দেখা যাবে না কোনো টিভি চ্যানেল। কারণ এই তিন চ্যানেলেই আছে সরকারের স্বীকৃতি।
২. ‘থ্রি জেনারেশনস অব পানিশমেন্ট’: কিমের রাজ্যে এই আইনটি একটি দুঃস্বপ্নের মতো। অপরাধ করবেন আপনি, আর শাস্তি পেতে হবে তিন প্রজন্মকে। অর্থাৎ, কেউ কোনো অপরাধ করলে তিনি তো শাস্তি পাবেনই, সঙ্গে তার বাবা এবং সন্তানকেও শাস্তি পেতে হবে। কারো দাদা অপরাধ করলে সঙ্গে তার ছেলে ও নাতিকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করবে তিন প্রজন্মঅপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করবে তিন প্রজন্ম।
৩. সরকার অনুমোদিত হেয়ার কাট: চুল কাটাতে সেলুনে যাবেন? কিন্তু চুলটা কাটাতে হবে কিমের ইচ্ছা অনুসারে। হ্যাঁ, এমন নিয়মই করে রেখেছেন এই সমাজতান্ত্রিক নেতা। ২৮ ধরনের চুলের স্টাইল অনুমোদিত উত্তর কোরিয়ায়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ নিজের ইচ্ছেমতো চুল ছাঁটতে পারবেন না।
নারী-পুরুষ সবার জন্য একই নিয়ম। ২০১৩ সালে এই আইনটি পাস করেন কিম জং-উন। সেখানে বলা আছে, কিমের চুলের স্টাইলও কেউ অনুকরণ করতে পারবেন না। কারণ কিম নিজের চুলের স্টাইলকে একক রাখতে চান। এমনকি চুলে স্পাইকও করা যাবে না।
৪. বাস্কেটবল খেলার ভিন্ন নিয়ম: বাস্কেটবল খেলার ব্যাপারেও নিয়ম বদলেছে কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া। নিজেদের মতো করে খেলার নিয়ম তৈরি করেছে। যেমন: তিনবার থ্রো মিস করলেই কাটা যাবে পয়েন্ট। আবার শেষের তিন মিনিটে গোল করতে পারলে মিলবে আট পয়েন্ট। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়মে এর কোনোটিই নেই।
৫. রাজধানীতে থাকতে হলে লাগবে সরকারি অনুমতি: যে কেউ চাইলেই উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে থাকতে পারেন না। এর জন্য বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। কারণ কিম জং-উন চান, শুধু সফল, ধনী ও ক্ষমতাধর মানুষরাই রাজধানীতে থাকুন। তাই যার তার জন্য পিয়ংইয়ং নয়! সেখানে থাকতে হলে আগে লাগবে সরকারের অনুমতি।
৬. স্কুলে বাচ্চার চেয়ার-টেবিল কিনে দেবে মা-বাবা: পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই স্কুলে শিশুদের চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কিমের দেশ বলে কথা! সেখানে এ ব্যাপারেও আছে আজব নিয়ম। স্কুলে পাঠানোর আগে বাচ্চার বসার ব্যবস্থা করতে হবে অভিভাবকেই। অর্থাৎ ডেস্ক, চেয়ার, টেবিল- যা প্রয়োজন সবই কিনে দিতে হবে। আবার স্কুল ফি-ও আলাদা করে দিতে হবে। নির্দিষ্ট স্টাইলের বাইরে কাটানো যাবে না চুলনির্দিষ্ট স্টাইলের বাইরে কাটানো যাবে না চুল।
৭. বাইবেল কেনা নিষিদ্ধ: উত্তর কোরিয়ার আইন অনুসারে, সে দেশে বাইবেল কেনা বা সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধর্মগ্রন্থটিকে পশ্চিমা সংস্কৃতির অংশ মনে করে কিম সরকার। শুধু বাইবেল নয়, খ্রিস্টান ধর্মকেও মনে করা হয় পাশ্চাত্য সংস্কৃতি। তাই বাইবেল পড়ে যাতে কেউ খ্রিস্টান হয়ে না যায়, সেজন্য ধর্মগ্রন্থটির ওপর দিয়ে রাখা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। একবার রাস্তায় বাইবেল বিতরণের অভিযোগে এক খ্রিস্টান নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল উত্তর কোরিয়া প্রশাসন।
৮. অ্যাপল, সনি, মাইক্রোসফট ব্যবহার চলবে না: শুধু বাইবেল বিক্রি নয়, উত্তর কোরিয়ায় অ্যাপল, সনি ও মাইক্রোসফটের পণ্য বিক্রিতেও আছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। আর এ কারণে এসব ব্র্যান্ডের কোনো পণ্য, যেমন: আইফোন থেকে ল্যাপটপ, টিভি কিছুই পাওয়া যায় না। উত্তর কোরিয়ায় খুব কম সংখ্যক মানুষই এই ব্র্যান্ডগুলোর খোঁজ-খবর রাখেন।
৯. পশ্চিমা সাহিত্যও নিষিদ্ধ: পশ্চিমা সাহিত্য পাঠও চলে না কিমের উত্তর কোরিয়ায়। এমনকি পর্যটকরা পাশ্চাত্যের কিছু নিয়েও উত্তর কোরিয়ায় ঢুকতে পারবেন না। সেটা একটি গাইডবুক হলেও। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় গানের অ্যালবাম থেকে শুরু করে পশ্চিমা সিনেমার কোনো ভিডিও সঙ্গে থাকলেও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস
অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআই











